কপিরাইট © ২০২৪ TalkBarta দ্বারা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


বাংলা ভাষাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করতে অবদান রাখা অভ্র কিবোর্ড এবার একুশে পদকের সম্মাননা পেতে যাচ্ছে। তবে এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়—এটি পুরো দলের সংগ্রাম ও শ্রমের ফল।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে এই পদকের জন্য প্রথমে অভ্র কিবোর্ডের উদ্ভাবক মেহেদী হাসান খান-কে মনোনীত করা হয়। তবে তিনি এটিকে দলীয় অর্জন হিসেবে দেখার আহ্বান জানালে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। এখন এই পুরস্কার পাচ্ছেন আরও তিনজন সহযোদ্ধা—রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম এবং শাবাব মুস্তাফা।
২০০৩ সালে মেহেদী হাসান খান যখন অভ্র’র কাজ শুরু করেন, তখন এই সফটওয়্যার বা তার নাম তেমন পরিচিত ছিল না। একটি অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে তৈরি হয় এই সফটওয়্যারটির ভিত্তি।
তিনি বলেন,
"ইউনিকোডের ব্যবহার তখনো নতুন ছিল, হাজারটা সমস্যা। অনেকে এগিয়ে আসেন সমস্যা নিয়ে, আবার অনেকেই সমাধানে সাহায্য করতে শুরু করেন। এভাবেই ধাপে ধাপে তৈরি হয় অভ্র’র দল।"
অভ্র শুধুমাত্র একটি কিবোর্ড নয়, এটি ছিল বাংলা ভাষাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য করার এক বিপ্লবী উদ্যোগ। ওপেন-সোর্স হিসেবে অভ্র’র এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী, যাদের অনেকেই একে অপরকে চিনতেন না, কিন্তু অভ্র’র মিশনে বিশ্বাস রেখেই কাজ করে গেছেন।
একুশে পদক ঘোষণার পর মেহেদী হাসান খান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন:
"যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভ্র’র মিশনে ছিল—রিফাত, সিয়াম, শাবাব—তাদের ছাড়া আমি এই পদক নিতে পারবো না।"
এই কথার প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পদক কমিটিকে বোঝাতে বেশি কষ্ট করতে হয়নি। তিনি দলের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে রাজি হন, যা বাংলাদেশের পুরস্কার সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
এই পদক প্রাপ্তি প্রমাণ করে যে বড় কোনো অর্জন একা সম্ভব নয়। মেহেদী হাসান বলেন:
"পদক তো প্রতীক, তবে এই প্রতীকের মধ্য দিয়ে অভ্র’র মিশন এবং আমাদের টিমওয়ার্কও উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে।"
তিনি আরও বলেন,
"একলা একলা বেশি দূর যাওয়া যায় না। দলের স্বীকৃতি দেওয়ার এই সংস্কৃতি চালু থাকুক।"
অভ্র কিবোর্ডের এই অর্জন কেবল একটি সফটওয়্যারের স্বীকৃতি নয়, এটি বাংলা ভাষা, প্রযুক্তি, এবং টিমওয়ার্কের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
অভ্র’র মিশন আমাদের শিখিয়েছে— "শুধু প্রযুক্তি নয়, ভালোবাসা, একতা, এবং টিমওয়ার্কও সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।"